ডিলিট না ডি-লিট???

রাজনীতির কাছে মাথানত করা গণতন্ত্রের পক্ষে মঙ্গলজনক হতে পারে না, বিশেষত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনীতির প্রবেশ , কিন্তু রাজ্যের ইতিহাস ঘটলে এটা পরিষ্কার যে, শিক্ষাক্ষেত্র কে রাজনীতির ময়দানে পরিণত করতে রাজনৈতিক দলগুলো আদাজল খেয়ে লেগে থাকেন। বিশেষত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের ডি-লিট পাওয়া সেই সন্দেহটা প্রকট হয়। তা সে জ্যোতি বাবু হোক বা বর্তমানের মাননীয়া!

ডি-লিট প্রদান অনেক বিষয়ের ওপর প্রদান করা হয়। তবে রাজনৈতিক ব্যক্তিরা নিশ্চই চিকিৎসা বিজ্ঞান বা মহাকাশবিজ্ঞানে পাবেন না? তাঁরা সমাজ সেবক হিসাবেই পাবেন। যদিও আজকাল রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা হাজার একটা গুণের অধিকারী!!

আমাদের বর্তমান মাননীয়া ক্ষমতায় এসেই শিক্ষাক্ষেত্র নামক রাজনৈতিক  ময়দান থেকে বামের উচ্ছেদ করতে পারেন নি তবে মাননীয়া যে লড়াইয়ের মধ্যমে ৩৪ বছরের বাম  শাসনের অবসান ঘটিয়েছিলেন তার জন্য স্যালুট।  যদিও মাননীয়া “যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ” এই প্রবাদবাক্যটা রাজ্যের মানুষকে হাড়ে হাড়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন।

আজকের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে সমাজ সেবিকা মাননীয়ার ডি-লিট পাওয়াটা বেশ কিছু প্রশ্ন জাগছে।

♦কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানীয় ব্যক্তিবর্গ যারা মাননীয়াকে ডি-লিট প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে শাসক দলের শিক্ষা সেলের সদস্য ছাড়া বাইরের কি একজনও আছেন? আশা করি উত্তর “না” হবে।

♦১.৮৬ কোটি দামের ছবি আঁকতে পারা কি ডি-লিট পাওয়ার মানদন্ড হিসাবে বিবেচিত হয়েছে?

♦সমাজ সেবিকা হিসাবে যদি ডি-লিট প্রদান করা হয় তবে,বাংলার মা-বোনেরা ধর্ষিতা হলে মাননীয়া তাকে সাজানো ঘটনা বা ছোট ঘটনা বলেন। এটা সমাজ সংস্কারের কত নাম্বার ধারা?

♦ বামেরা ৩৪ বছরে রাজ্যকে সবদিক থেকে পঙ্গু করে ১লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকার দেনা করে রাজ্যকে দেউলিয়া করে চলে গেছে  আর মাননীয়া একই পথ অনুসরণ করে মাত্র ৬/৭ বছরে ঋণের পরিমাণ ৩লাখ ৬৬ হাজার কোটি টাকা করা কি সমাজ সংস্কারকের মানদন্ড?

♦চিট ফান্ডের মাধ্যমে রাজ্যে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতারিত হয়েছেন, অগণিত মানুষ আত্মহত্যা করেছেন, এই কেলেঙ্কারিতে তাঁর দলের নেতা মন্ত্রীর অভিযুক্ত হয়ে জেলের ভাত খাওয়া রাজ্যবাসী দেখেছেন। এমন কি জেলে বসে মন্ত্রীত্ব রাজ্যবাসীকে উপহারও দিয়েছেন! এই উপহার দেওয়াটা কি ডি-লিট পাওয়ার ক্ষেত্রে বিবেচিত হয়েছে?

♦ডি-লিট নির্বাচনকারী কমিটি তোষণ রাজনীতিকে মান্যতা দিয়ে ইমাম ভাতা প্রদানকে সমাজ সংস্কারক হিসাবে বিবেচনা করেছেন?

♦একই ভাবে বিভেদের রাজনীতিকে মান্যতা দিয়ে দুর্গাপূজার ওপর বিধি নিষেধ  কি সমাজ সংস্কারক হিসাবে বিবেচনা করেছেন?

♦রাজ্যের লক্ষ লক্ষ বেকারদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করে তেলে ভাজা শিল্পপতি বানানো সমাজসংস্কারের কত নম্বর ধারা?

♦রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতিতে ডুবে থাকা বিশেষত টেট দুর্নীতি কে কি সমাজসংস্কারক হিসাবে ধরা হয়েছে?

রাজ্যসরকার আমজনতার নজরে দুর্নীতি, ভ্রষ্টাচার, তোষণ, বিভেদ সহ অনেক বিষয়ে ডি-লিট পেয়েছেন, তারপর  রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি-লিট প্রদান, আম জনতা কি চোখে দেখবে তা সময়-ই বলবে |

 

: এস. কে. কীর্ত্তনিয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *