বলো বলো বলো সবে , (“পাকোড়া” ও “তেলেভাজা” শিল্পে ) ভারত এবার জগত সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে

মাননীয় নরেন্দ্র মোদির মত যে “পাকোড়া” বিক্রেতাও তো রোজগার করছে তাহলে তাকেও তো স্বাবলম্বি বলতে হবে, তিনি তো বেকার নন, মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী ভাষাতেই প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রেখেছেন, যেমন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন “তেলেভাজা”ও  একটা শিল্প |

আসলে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই শাসকের এই অপলাপ, গরিব, নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ভোটে জিতে আসা রাজনৈতিক দলগুলোর  মিথ্যার ফানুস চুপসে গেলেই নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে এই রকম কান্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য পেশ করে থাকে কিন্তু তারা বোঝে না, জনতা জীবনের টিকে থাকার লড়াই-এর কারনে যে কোনো জিনিষ তাড়াতাড়ি ভুলে যায় ঠিকই কিন্তু জনতা বোকা নয়, আর বোকা নয় বলেই ৩৪ বছরের শাসন একদিনে উপরে ফেলতে পারে, কোনো বুথ দখল, সায়েন্টিফিক রিগিং , বোমাবাজি, গুন্ডার হুমকি, পুলিশের জুলুম কোনো কিছুই জনবিপ্লবকে আটকাতে পারে না, কিন্তু ক্ষমতার শীর্ষে থাকা লোকেরা এই সারসত্যগুলো ভুলে যায় আর এই রকম কান্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য পেশ করে, নিজেদের মূর্খামি প্রকাশ করে |

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর মুখের ভাষা আজ এক, যদিও দুজনে দুটি বিপরীতধর্মী রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত, এটাই সবচেয়ে হতাশার বিষয়, নির্বাচনের সময় জনতাকে পারলে হাতে চাঁদ এনে দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জিতে আসা রাজনৈতিক দলগুলি তাদের প্রতিশ্রুতিরাখতে যখন সম্পূর্ণ ব্যর্থ তখনই ব্যর্থতা ঢাকতে এই ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক নেতারা বলে থাকেন এবং আরো অবাক লাগে যখন এই ধরনের বক্তব্যকে যুক্তিযুক্ত  প্রমান করতে শাসক দলের লোকেরা নিজেদের যুক্তি বুদ্ধি বিসর্জন দিয়ে মাঠে নেমে পড়ে |

আমি মনে করি, জীবনে কোনো কাজ-ই ছোট বা বড় নয় কিন্তু তাই বলে যদি কোনো ডাক্তারকে বলা হয় ট্রেনে হকারি করুন বা রাজনৈতিক কোনো নেতাকে বলা হয় আমার বাড়ির কাপড়গুলো ধুয়ে দিন,তাকি খুব বাস্তব সম্মত কথা হবে ? একটি গ্র্যাজুয়েট বা পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ছেলে বা মেয়ে যখন পেটের দায়ে  ট্রেনে হকার হতে বাধ্য হয় তখন তা সমাজের পক্ষে নিশ্চয়ই গৌরবের নয়, গ্র্যাজুয়েট বা পোস্ট গ্র্যাজুয়েট , হায়ার-সেকেন্ডারী পাশ করা ছেলে বা মেয়েরা যখন রাস্তায় দাড়িয়ে ইদুর মারার বিষ বিক্রি করে, তাদের অনেক সময় মনে হয় ইদুর মারার বিষ তারা নিজের গলায় ঢেলে শিক্ষিত হবার আত্মগ্লানি মুক্তি পাক ,এদের মনের অবস্থা কি কোনো রাজনৈতিক নেতা বুঝে দেখেছেন? গ্র্যাজুয়েট বা পোস্ট গ্র্যাজুয়েট, হায়ার-সেকেন্ডারী বা মাধ্যমিক পাশ করা ছেলে বা মেয়েরা কি অবস্থায় “পাকোড়া” বিক্রেতা হয়েছে তাকি কোনো রাজনৈতিক নেতা অনুধাবন করেছেন ? তাদের মানসিক যন্ত্রনা, শিক্ষিত হবার আত্মগ্লানি, প্রবল হতাশা তাদের জীবনকে যে কুরেকুরে খায় , সে খবর কজন রাখে ? মোদিজি এই আপনার তৈরী ভারতের “আচ্ছে দিন” বা মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর “ বিশ্ব বাংলা” যেখানে রাজহাঁস অযত্নে মারা যায় আর কাকেরা মুক্তো পায় |

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীকে একটা অনুরোধ, আপনারা যদি প্রতিশ্রুতি পালনে অক্ষম হন তাহলে তা নির্দ্বিধায় স্বীকার করুন, জনতা সত্যকে সহজেই স্বীকার করে, উদাহরন “দিল্লির কেজরিওয়াল সরকার” কিন্তু দয়া করে কোটি কোটি শিক্ষিত বেকারদের মনের মধ্যে হতাশার ধিকি ধিকি জ্বলতে থাকা আগুনটাকে উস্কে দেবেন না, বালখিল্যের মত কথা বলে তাদের আক্রোশের আগুনে ঘৃতাহুতি করবেন না, ক্রমাগত জমতে থাকা হতাশা, আত্মগ্লানির   বারুদে, দেশলাই –এর একটি ফুলকি বর্তমানের পুরো সমাজ ব্যবস্থাকে জ্বালিয়ে দিতে পারে | জানেন কি পুলিশ বা মিলিটারী সবচেয়ে বেশী ভয় পায় কাকে, সাধারন জনতাকে , কোটি কোটি শিক্ষিত বেকার  ছেলে বা মেয়েদেরকে, কারণ এরা যদি একবার খেপে যায়, তাহলে পুরো রাষ্ট্র ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে, এরকম অনেক উদাহরন ইতিহাস ঘাটলেই পাওয়া যাবে তাই আপনাদের কাছে নিবেদন দয়া করে আগুন নিয়ে খেলবেন না, এই আগুন কিন্তু শুধু আপনাদের নয়, বর্তমানের গোটা সমাজব্যবস্থা ও শ্রেণীবিন্যাসকে ধ্বংস করে দিতে পারে কারণ বিপ্লবের আগুন বর্তমান সমাজব্যবস্থা ও শ্রেণীবিন্যাসের বিরোধী |

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *