সংকীর্ণ জাতপাতের রাজনীতিতে রক্তার্ত মা মাটি মানুষের স্বপ্ন

মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর একটি জনসভায় সদর্প ফতেয়া( নাকি ঘোষনা ),তিনি মুসলিম তোষণ করবেন। কোটি বার করবেন এবং করেই যাবেন, সংবিধান অনুযায়ী দেশ ধর্মনিরপেক্ষ কিন্তু সংবিধানের তোয়াক্কা না করেই ধর্মের ভিত্তিতে তোষণ করবেন তিনি, এতো সরাসরি সংবিধানের অবজ্ঞা, তিনি কি রাজতন্ত্রের বিশ্বাসী ? তিনি তার দলের সর্বময় কত্রী হতে পারেন কিন্তু তিনি কি নিজেকে  সংবিধানের উপর মনে করেন ?

মাননীয়ার এই বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তিও দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে যেহেতু ৩১.৯ শতাংশ মানুষ মুসলিম তাই তিনি মুসলিম তোষণ করবেন। এত পুরোপুরি ভোটের জাতপাতের রাজনীতি , বিজেপিকে  তিনি যে জাতপাতের রাজনীতি করা দল বলে দোষ দেন, তা মাননীয়ার এই কথায় কি তিনিও যে জাতপাতের রাজনীতি করছেন তা প্রমান হয় না? অনগ্রসর মানুষদের জন্য সংরক্ষণের সুযোগ থাকা উচিত – একথাকে পুরোপুরি সমর্থন করেই বলছি ,সব কিছু শতাংশের হিসাব স্থির করা সম্ভব ? পশ্চিমবঙ্গে বৌদ্ধদের সংখ্যা তো শতাংশের হিসাবে সামান্য ,তবে কেন তাঁরা তোষণের মাপকাঠিতে অগ্রাধিকার পাবেন না? ভোটের জাতপাতের রাজনীতিতে মাননীয়া বৌদ্ধদের ব্রাত্য করে রেখেছেন কারণ বৌদ্ধরা ভোটে পশ্চিমবঙ্গে কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না বলে, তাই ত মাননীয়া ? মুসলিমরা পশ্চিমবঙ্গে ৩১.৯ শতাংশ, তাই তারা তোষণযোগ্য,এই যদি মাননীয়ার সূত্র হয়, তবে এটাও পরিষ্কার হওয়া দরকার,শতাংশের হিসাবে যাঁরা সংখ্যাগুরু তাঁরা মাননীয়ার চোখে কী মর্যাদার অধিকারী বা যারা মুসলিমদের থেকেও সংখ্যালঘু তাঁদের জন্য কী ভাবনা রয়েছে রাজ্যের সর্বোচ্চ শাসকের ?

স্বার্থরক্ষা ও তোষণ যে এক হতে পারে না,এটা রাজ্যের সর্বোচ্চ শাসক ভোটের রাজনীতির স্বার্থে ইচ্ছা করেই না বুঝে থাকতে চাইছেন তাই আজ পশ্চিমবঙ্গের বুকেও  সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু দ্বন্দ্ব শুরু হচ্ছে,ভোটের রাজনীতির স্বার্থে আমরা বৃহত্তর ভঙ্গিতে পরিস্থিতিকে দেখার চেষ্টা করছি না। সংখ্যালঘুর স্বার্থরক্ষাও এই ধর্মনিরপেক্ষ দেশ এবং সংবিধানের লক্ষ্য,কিন্তু সেখানেও মাপকাঠিটা ভেদাভেদহীন হওয়া দরকার ।

বিজেপি- তৃণমূল- কংগ্রেস, সমস্ত রাজনৈতিক দল নির্বিশেষে আমাদের বুঝতে হবে তোষণের গণ্ডিবদ্ধ রাজনীতি ছাড়িয়ে সার্বিকভাবে উদার দৃষ্টির প্রয়োজন। ধর্মপরিচয় শেষ কথা নয়, সংকীর্ণ রাজনীতির উর্ধে গিয়ে আমরা কি পারি না এক উদাত্ত ভারতের স্বপ্ন দেখতে ? তোষণ-নিপীড়ন অথবা শতাংশের হিসাবগুলো বন্ধ করবে রাজনৈতিক দলগুলো?

মনে রাখতে হবে ভারতের সার সত্য  হল “বিবিধের মাঝে দেখ মিলন মহান”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *